March 27, 2026, 1:10 am

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
দৌলতদিয়ায় বাসডুবি/ কুষ্টিয়ার ৪ জনের মৃত্যু, শোকে স্তব্ধ জনপদ গোয়ালন্দ বাস দূর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ২৬, পরিচয় মিলেছে ২৪ জনের দৌলতদিয়া ট্রাজেডি/ মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩, নিহতদের পরিচয় প্রকাশ,তদন্ত কমিটি, আর্থিক সহায়তা ঘোষণা আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস/ জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার ১০ লাখ টাকা অসহায় ও দুস্থদের হাতে তুলে দিলেন কুষ্টিয়া-১ আসনের এমপি রেজা ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল রাষ্ট্রের ১৮তম অ্যাটর্নি জেনারেল আজ ভয়াল ২৫ মার্চ ; জাতীয় গণহত্যা দিবস গাংনীতে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে ত্রিমুখী সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১৫ গাংনীতে সিজার-পরবর্তী জটিলতায় গৃহবধূর মৃত্যু, ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ কুষ্টিয়া বিজিবির অভিযানে সীমান্ত থেকে সোয়া ৬ কোটি টাকার এলএসডি ও মাদক জব্দ

দৌলতদিয়ায় বাসডুবি/ কুষ্টিয়ার ৪ জনের মৃত্যু, শোকে স্তব্ধ জনপদ

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস ডুবে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় কুষ্টিয়ার চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে নিহতদের পরিবার ও এলাকাবাসী; চারদিকে শুধু কান্না আর আহাজারি।
নিহতরা হলেন—কুষ্টিয়া পৌরসভার মজমপুর গ্রামের মো. আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন (৫৬), খোকসা উপজেলার খাগড়বাড়িয়া গ্রামের হিমাংশু বিশ্বাসের ছেলে রাজীব বিশ্বাস (২৮), একই উপজেলার ধুশুন্দু গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের তিন বছরের শিশু ছেলে ইস্রাফিল এবং সমসপুর গ্রামের গিয়াসউদ্দিন রিপনের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা (১৩)।
এই দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে নিষ্পাপ দুই প্রাণের মৃত্যু। তিন বছরের শিশু ইস্রাফিল আর কিশোরী আয়েশা সিদ্দিকার চলে যাওয়ায় গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ছোট্ট জীবনের এত দ্রুত অবসান মেনে নিতে পারছেন না কেউই।
স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক মুহূর্তে চারটি পরিবারে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। বিশেষ করে আয়েশার পরিবারের আর্তনাদ হৃদয়বিদারক।
আয়েশার বাবা গিয়াস উদ্দিন রিপন সাভারের ধামরাই এলাকায় একটি মাদ্রাসায় কর্মরত। সেখানেই মেয়েকে হেফজ বিভাগে ভর্তি করেছিলেন তিনি। অল্প সময়েই আয়েশা ১২ পারা কোরআন মুখস্থ করেছিল। বাবার স্বপ্ন ছিল—মেয়েকে একজন পূর্ণ হাফেজ বানাবেন।
ঘটনার দিন মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার পথে দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছে বাস থেকে নেমে পড়েন গিয়াস উদ্দিন রিপন ও তাঁর ছেলে। কিন্তু আয়েশা ও তার মা বাসের ভেতরেই ছিলেন। হঠাৎ করেই বাসটি নদীতে পড়ে যায়। কোনোভাবে মা বের হয়ে আসতে পারলেও আয়েশা আর বের হতে পারেনি।
বৃহস্পতিবার সকালে আয়েশার মরদেহ গ্রামে এনে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। একসঙ্গে সন্তান হারানোর শোকে প্রায় পাগলপ্রায় বাবা গিয়াস উদ্দিন রিপন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “মেয়ের ইচ্ছেতেই তাকে হেফজে দিয়েছিলাম। খুব দ্রুত কোরআন শিখছিল… বড় হাফেজ বানানোর স্বপ্ন ছিল–সব শেষ হয়ে গেল।
অন্যদিকে রাজীব বিশ্বাসের বাড়িতেও চলছে শোকের মাতম। পরিবারের সদস্যরা এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না, যে ছেলে সকালে ঘর থেকে বের হয়েছিল, সে আর কখনো ফিরবে না।
মর্জিনা খাতুনের মরদেহ রাতেই কুষ্টিয়ায় আনা হয়। সকালে জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে শেষ বিদায়ে নেমে আসে শোকের ছায়া।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ঈদের আগে এমন একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা পুরো জনপদকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। এক দুর্ঘটনায় একাধিক পরিবার হারিয়েছে তাদের প্রিয়জন—কেউ মা, কেউ সন্তান, কেউবা পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী।
এই দুর্ঘটনা শুধু কয়েকটি প্রাণহানি নয়, রেখে গেছে অসংখ্য অসমাপ্ত স্বপ্ন, না বলা কথা আর অগণিত অশ্রু।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net